বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও এখনো পুরোপুরি সংকট কাটেনি। সমাজে এখনো অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিরাজমান। রোববার সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় তিনি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও তার কালো ছায়া এখনো রয়ে গেছে।’ দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে এখনো সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘একসময় ‘রাজনীতিবিদ’ নাম শুনলেই মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখত। কিন্তু নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণেই তারা সেই জায়গাটি হারিয়েছেন। কথায় ও কাজে মিল না থাকলে মানুষের মনে শুধু অশ্রদ্ধাই নয়, ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়।’
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কথায় ও কাজে মিল রেখে জাতিকে আস্থায় আনতে না পারলে একটি ভালো জাতি গঠন সম্ভব নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এই অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের মনে আবারও অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
জনগণের অধিকার রক্ষায় তার দল কোনো আপস করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবেন।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিক সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একইসঙ্গে তিনি দেশবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মু. ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, আঞ্চলিক টিম সদস্য আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল এবং জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।