কুখ্যাত মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের নিউ মেক্সিকোর রহস্যময় ‘জোরো র্যাঞ্চ’ খামারে ঘটে যাওয়া নারী পাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতারা। সোমবার পাস হওয়া এক আইনের মাধ্যমে এই প্রথম খামারটির অন্ধকার ইতিহাস উন্মোচনে পূর্ণাঙ্গ ‘সত্য অনুসন্ধান কমিশন’ গঠন করা হয়েছে।
সান্তা ফে থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ৭ হাজার ৬০০ একর আয়তনের এই বিশালাকার খামারটি স্থানীয়ভাবে ‘প্লেবয় র্যাঞ্চ’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে এখানে প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে কম বয়সী মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হতো। নবগঠিত তদন্ত কমিটি খামারে যাতায়াতকারী প্রভাবশালী অতিথি, বিজ্ঞানী, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের শনাক্ত করতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করবে।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক যোগসূত্র। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে এপস্টিনের সঙ্গে নিউ মেক্সিকোর দুজন সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর এবং একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক গভর্নর নির্বাচনি প্রচারের জন্য এপস্টিনের চার্টার্ড বিমান ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তার জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, তাকে এই খামারে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ‘ম্যাসাজ’ বা যৌন সেবা দিতে বাধ্য করা হতো।
২৫ লাখ ডলার বাজেটের এই তদন্ত কমিটির সমন জারি করার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। কমিটির লক্ষ্য হলো নিউ মেক্সিকোর তৎকালীন আইনি ব্যবস্থার সেই ছিদ্রগুলো খুঁজে বের করা, যার সুযোগ নিয়ে এপস্টিন বছরের পর বছর দায়মুক্তি ভোগ করেছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হওয়ায় এপস্টিনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন আইনি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অধিকারকর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, ফেডারেল তদন্তে এপস্টিনের দ্বীপ ও নিউইয়র্কের বাড়ি গুরুত্ব পেলেও জোরো র্যাঞ্চ বরাবরই উপেক্ষিত ছিল। কমিটির আগামী জুলাইয়ে প্রাথমিক এবং বছরের শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।