মঙ্গলে ১০ লাখ মানুষের বসতি গড়ার স্বপ্ন মাস্কের

মঙ্গল গ্রহে অন্তত ‘১০ লাখ বাসিন্দার’ এক স্বনির্ভর কলোনি গড়ে তোলাই এখন স্পেসএক্সের প্রধান লক্ষ্য। ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স শেয়ার বাজারে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মূল কেন্দ্রে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে।

গত বুধবার প্রকাশিত স্পেসএক্সের হালনাগাদ করা ‘প্রাথমিক পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও নথিতে ব্যতিক্রমী এক উদ্বোধনী বক্তব্য জুড়ে দিয়েছে স্পেসএক্স, যেখানে কোম্পানিটি বলেছে, তাদের মূল মিশন ‘মানুষকে বহু–গ্রহের উপযোগী করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি তৈরি করা’।

এ আইপিও নথিতে প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত দাম ধরা হয়েছে ১৩৫ ডলার, যা সফল হলে এটাই হবে ইতিহাসের বৃহত্তম পাবলিক শেয়ার বিক্রি। এ হিসাব অনুসারে, এ মহাকাশ গবেষণা কোম্পানিটির বাজারমূল্য গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। আর এ প্রক্রিয়ার হাত ধরেই মাস্ক পরিণত হতে যাচ্ছেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার বা লক্ষকোটিপতিতে। খবর বিডিনিউজের।

আগামী ১২ জুন থেকে নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে এর আনুষ্ঠানিক শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মাস্কের এ ট্রিলিয়নেয়ার খেতাব পাওয়াটা পুরোপুরি নির্ভর করছে স্পেসএক্সের বিশেষ কিছু মাইলফলক স্পর্শ করার ওপর। সেসব শর্তের মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, ‘মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের জন্য স্থায়ী এক মানব বসতি গড়ে তোলা’।

এ নথিতে স্পেসএক্স বলেছে, আমাদের একমাত্র পরিচিত বাসস্থান পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে পা রাখার মাধ্যমে আমরা মানব প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি। ফলে আমাদের চেতনার আলো আর একক কোনো গ্রহের মধ্যে সীমিত থাকবে না, যা এ বড় ও নির্মম মহাবিশ্বের অনিবার্য বিভিন্ন বিপদের মুখে পড়তে পারে। আমরা চাই না ডাইনোসরদের মতো মানুষেরও একই পরিণতি হোক… আমরা বিশ্বাস করি, মানবজাতির পরবর্তী যুগান্তকারী পরিবর্তনটি আসবে টেকসই ও অবিরত বিস্তার লাভ করা নভোচারী সভ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে, যা নতুন নতুন দিগন্তে প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন তৈরি করবে।

তবে এ লক্ষ্য পূরণের মূল চাবিকাঠি স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেটের কার্যকারিতা, যা নির্ভরযোগ্য এক মাহকাশযান হিসেবে এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত হওয়া বাকি।

এ যাবৎকালে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট স্টারশিপ। পুরো সৌরজগতে নভোচারী ও মালামাল পরিবহনের উদ্দেশ্যেই করেটটি তৈরি করা হচ্ছে। এরইমধ্যে নাসা’র সঙ্গে স্পেসএক্সের শত কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে পুনরায় মানুষ ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ‘আর্টেমিস’ মিশনে এ স্টারশিপ রকেটটি ব্যবহৃত হবে।

চাঁদে যাওয়ার এ সময়সীমাটি আগে ২০২৪ সাল নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। তবে ‘স্টারশিপ’–এর সামপ্রতিক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় এ তারিখটি আরও পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২২ মে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে একটি দুর্ঘটনা চিহ্নিত করার পর গেল সপ্তাহে স্টারশিপের পরবর্তী সকল পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ। এ পরীক্ষার সময় স্‌প্ল্যাশডাউন বা পানিতে অবতরণের প্রক্রিয়ায় স্টারশিপের ‘সুপার হেভি বুস্টার’–এর কয়েকটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু হতে ব্যর্থ হয়। ফলে বুস্টারটি তীব্র বেগে মেক্সিকো উপসাগরে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *