৬৩ বছর পর মস্কোয় ‘সাত পাকে বাঁধা’

প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরছে কালজয়ী বাংলা সিনেমা ‘সাত পাকে বাঁধা’। যে উৎসবে বহু বছর আগে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ পেয়েছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন, সেই একই উৎসবেই ফিরছে তার সিনেমাটি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার আধুনিক ভার্সন এবার দেখানো হচ্ছে ‘মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে’। গত ১৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হবে আজ বৃহস্পতিবার। ‘আউট অব কম্পিটিশন’ বিভাগে দেখানো হবে সিনেমাটি।

অজয় কর পরিচালিত এই সিনেমায় মূল দুই চরিত্রের অভিনয়শিল্পী সুচিত্রা সেন এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছিলেন আর. ডি. বনশাল। দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা ছিল চিত্রনাট্যের মূল উপজীব্য।

‘সাত পাকে বাঁধা’ সিনেমায় অর্চনা চরিত্রে অনন্য অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। অর্চনা ধনী পরিবার থেকে আসা এমন এক মেয়ে, যে ভালোবেসে বিয়ে করে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী তরুণ সৌমিত্রকে। বিয়ের পর তার সংসারে ধনী বাবা–মায়ের অযাচিত দান অশান্তি ও বিপর্যয় নিয়ে আসে। অর্চনা দরিদ্র প্রেমিক–স্বামীকে যেমন ভালোবাসে তেমনি উপেক্ষা করতে পারে না নিজের বাবা–মাকেও। প্রেম ও পরিবারের দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত অর্চনাকে পর্দায় সার্থক করে তুলেছিলেন সুচিত্রা। অহং, সামাজিক বিভাজন ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের টানাপড়েন কীভাবে একটি সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। মস্কো উৎসবে সিনেমাটি দেখানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমাটির প্রিন্ট ঠিক করা হয়েছে। কারণ সেই প্রিন্ট ধুলো, ময়লা, দাগে জর্জরিত ছিল। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য আধুনিক ডিজিটাল ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। পুরনো ফিল্মে সিনেমার যে অংশগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেই অংশটি আশপাশের অক্ষত ফ্রেমের সাহায্যে মেরামত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *