ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে জামায়াত জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। দলটি বলছে, চুক্তির ইতিবাচক বিষয়গুলো গ্রহণ করে বাকিগুলো বর্জন করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পল কাপুরের সঙ্গে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বাসায় বৈঠক করে জামায়াতে ইসলামী। আলোচনা শেষে নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে হওয়া মার্কিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াত চুক্তি পর্যালোচনা করবে। ইতিবাচক বিষয়গুলো গ্রহণ করবে, বাকিগুলো বর্জন করা হবে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদে সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চেয়েছেন পল কাপুর। এ বিষয়ে জামায়াত বলেছে, তারা সংসদে ‘ভাইব্রেন্ট’ ভূমিকা রাখতে চায়। ইতিবাচক বিষয়ে সরকারকে সহায়তা করবে দলটি।
বিরোধী দল বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ প্রদান করা হবে কিনা– এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জামায়াত বিষয়টিতে ইতিবাচক– এমনটিই জানানো হয়েছে। পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং জামায়াতের আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা
সকালে জামায়াতের পর একই স্থানে পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসুফ ও নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর আব্দুল মঈন খান বলেন, এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিভিন্নভাবে অতীতে সহযোগিতা করেছে। আজকে নতুন সরকার এসেছে। কাজেই তারা স্বাভাবিকভাবে এখানে আসবে। বাংলাদেশে কী হচ্ছে, আমাদের নীতিমালা কী, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাগুলো কী এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজকে এখানে এসেছি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয় নিয়ে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কী আলোচনা করেছে সেটা হয়তো সরকার আপনাদের জানিয়েছে এবং তারাও জানাবে। আজকে আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো মূলত দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সরকারের নীতিমালা।
স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক
এর পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এস পল কাপুর বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল।
জিয়ার কবরে পল কাপুরের শ্রদ্ধা
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে গতকাল দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পল কাপুর। সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত। দুই দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা।