জোড়া গোলে নেইমারের জবাব

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর গোলের দেখা পাননি ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। গোল করা তো দূরের কথা ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময় মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে ৩৪ বয়সী এই তারকাকে। তবে যে কয়টি ম্যাচ খেলেছেন সেখানে দেখার মতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি এই সেলেসাও তারকা। এবার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে (সিরি-এ) নড়বড়ে সান্তোসকে টেনে তুললেন দ্বিতীয় রাউন্ডে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে নেইমার করলেন জোড়া গোল, তাতেই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে সান্তোস।
বৃহস্পতিবার ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে এই জয়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন নেইমার। শুধু তাই নয়, নিজের মান বাঁচানোর পাশাপাশি সান্তোসের কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোদার চাকরিও বাঁচালেন তিনি। এই ম্যাচের আগে দল হারলে কোচের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল। এদিন ম্যাচের ২৪তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার এক গোলে সান্তোসকে এগিয়ে দেন নেইমার। গোল করার পর তিনি প্রতিপক্ষ ভাস্কো সমর্থকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ‘চুপ’ থাকার ইশারা করেন। এরপর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র স্টাইলে নেচে গোলটি উদ্যাপন করেন। ম্যাচটি নেইমার এবং থিয়াগো মেন্দেসের মধ্যকার পুরোনো দ্বৈরথের কারণেও ছিল উত্তপ্ত। ২০২০ সালে মেন্দেসের এক ট্যাকলের কারণেই ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছিল নেইমারের। এই ম্যাচে প্রথমার্ধে মাঠেই তাদের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় নেইমারের।
তবে নেইমারের করা এই গোলের লিড প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই শোধ করে ভাস্কো দা গামা। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে বারোসের গোলে সমতায় ফেরায় তারা। তবে বিরতির পর সান্তোসকে আবার এগিয়ে দেন জাতীয় দলে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। উইলিয়ান আরঁ-র একটি অসাধারণ লং পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেইমার ভাস্কোর গোলরক্ষক লিও জারডিমের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে জালে বল জড়ান ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকার।
প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হারের মুখ দেখল ভাস্কো দা গামা। এখন পর্যন্ত একটিও জয় পায়নি তারা। রয়েছে একটি ড্র। পয়েন্ট টেবিলে তলানি দলটি। দুই হার ও এক ড্রয়ের পর জয়ের মুখ দেখল সান্তোস। পয়েন্ট টেবিলে দলটির অবস্থান ১৩তম।
ম্যাচের পর সমালোচকদের জবাবও দেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা। নেইমার বলেন, ‘গত সপ্তাহে বলা হয়েছিল, আমি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। (ম্যাচে) দুটি গোল করেছি। এটাই ফুটবল। একদিন বলা হয় তুমি আর ভালো নও বা অবসর নিয়ে ফেলেছ, পরদিনই বলা হয় তোমাকে বিশ্বকাপে যেতেই হবে।’ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ২৩তম এই আসরে ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন নেইমার।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে প্রস্তুত করতে কঠোর পরিশ্রম করছি, যেন সেরা ফিটনেসে ফিরতে পারি। এটা ছিল এ বছরের তৃতীয় ম্যাচ এবং পুরো ৯০ মিনিট খেলা দ্বিতীয় ম্যাচ। শেষ দিকে কিছুটা ক্র্যাম্প অনুভব করেছি, তবে এটা প্রক্রিয়ারই অংশ।’ ২০২৬ সালের শুরুতে অস্ত্রোপচারের পর সম্প্রতি মাঠে ফিরেছেন নেইমার। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাধিকবার জানিয়েছেন, ফিট থাকলে বিশ্বকাপ দলে বিবেচনায় থাকবেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *