যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে এখন সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম দ্রুত সামনে এসেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের অতীত সম্পর্ক নতুনভাবে প্রকাশিত হওয়ায় লেবার পার্টির ভেতরে সমালোচনা তীব্র হয়। এই সংকটের মধ্যে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন, যা সরকারের স্বচ্ছতা ও নেতৃত্ব নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলে। দলীয় সূত্র বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা ‘ফিফটি-ফিফটি’।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে নীরব আলোচনা শুরু হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী শাবানা মাহমুদ ২০২৫ সাল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন শাবানা। ২০১০ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। তিনি রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রথম দিকের মুসলিম নারী সংসদ সদস্যদের একজন।
অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কারণে শাবানা দলীয় ভেতরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, তবু মধ্যপন্থী ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। স্থায়ী বসবাসের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এটি ‘অধিকার নয়, বিশেষ সুযোগ’। এই অবস্থান লেবার পার্টির কিছু অংশে অস্বস্তি সৃষ্টি করলেও নেতৃত্বের দৌড়ে তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
শাবানার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নামও সম্ভাব্য নেতা হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। তবে মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠতা, আইনি পটভূমি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কারণে শাবানা মাহমুদই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন।