রাশিয়ার সঙ্গে গত চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বুধবার ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলক নিয়োগপ্রাপ্ত সেনার সংখ্যা মোট ৫৫ হাজার। এ ছাড়া এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে। খবর আলজাজিরা ও সিএনএনের।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে উভয় পক্ষ মিলিয়ে মোট সামরিক হতাহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধে এরই মধ্যে রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৫-৬ লাখের মধ্যে।
এদিকে গত সোমবার রাতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তীব্র শীতের মধ্যে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। এ হামলার ফলে ইউক্রেনে চলমান রেকর্ড শীতে জ্বালানির অভাব মানুষকে জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এ অবস্থার রেশ না কাটতেই এবার ইউক্রেনের রেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেকসি কুলেবা জানিয়েছেন, উত্তরের সুমি অঞ্চলে মঙ্গলবার রেলওয়ে অবকাঠামোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ রাশিয়ার আস্ত্রাখানের কাপুস্টিন ইয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের একটি কমপ্লেক্সে ধারাবাহিক সফল হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মঙ্গলবার বলেছেন, মানুষকে আতঙ্কিত করতে প্রচণ্ড ঠান্ডার দিনগুলোর সুযোগ নেওয়া রাশিয়ার কাছে কূটনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কিনা, তা নিয়ে কোনো মহল ধারণা দিতে পারেনি। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তম উমেরভ বলেছেন, আলোচকরা এ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং ব্যবহারিক সমাধানের ওপর মনোনিবেশ করেছেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া রাশিয়ার কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, আলোচনায় নিশ্চয় অগ্রগতি হয়েছে।