খাগড়াছড়িতে বিদেশি আম চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

খাগড়াছড়িতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিদেশি জাতের আম চাষ। পাহাড়ি অঞ্চলের অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির আমের বাণিজ্যিক চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। দেশীয় আমের তুলনায় পাঁচ থেকে ছয়গুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় বিদেশি আম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে বিদেশি আমের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম বিপণনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কৃষক মংশিতু চৌধুরী প্রায় ৩০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন আমের বাগান। সেখানে দেশীয় জাতের পাশাপাশি আমেরিকান পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা ম্যাংগো, থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, দোকমাই ও কেসিংটন প্রাইডসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের আবাদ করেছেন তিনি। মংশিতু চৌধুরী বলেন, দেশি আমের তুলনায় বেশি লাভজনক হওয়ায় বিদেশি আমের চাষ করেছি। বিদেশি জাতের আমের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় বর্তমানে অনেক কৃষক এ ধরনের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এসব বাগানে কাজ করে স্থানীয় অনেক মানুষের জীবিকাও নির্বাহ হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের বিদেশি আম চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দেশীয় আমের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের চাষ হচ্ছে। এসব আমের দাম ভালো এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যায়। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বাজারে বিদেশি আমের চাহিদাও বেশি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৬২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলার অর্থনীতিতে আম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন বাগান মালিকরা। খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পরিবহনের সময় বাজার ফান্ড, জেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ অন্তত চারটি স্থানে টোল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে ব্যবসায়ীরা আম কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন চাষিরা।

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক কালো বরণ চাকমা বলেন, আম বাগান মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী আম কিনতে আসছেন না। টোল কমানো হলে বাগান মালিকরা উপকৃত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *