কোম্পানির আদর্শিক বিচ্যুতি সংক্রান্ত একটি মামলায় জড়িয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ দুই ব্যক্তিত্ব ইলান মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে সম্প্রতি দুজন পৃথকভাবে হাজিরও হয়েছিলেন।
ইলন মাস্কের অভিযোগ অনুযায়ী, ওপেনএআইকে অলাভজনক সংস্থা থেকে বাণিজ্যিক কোম্পানিতে রূপান্তর করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান ও সিইও স্যাম অল্টম্যান। এর মাধ্যমে তারা দুজন মিলে একটি ‘চ্যারিটি’ চুরি করেছেন। কারণ, প্রতিষ্ঠার সময় এটিকে লাভজনক না করার অঙ্গীকার ছিল। বাণিজ্যিক করে তারা মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার মৌলিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন।
এ মামলায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন ইলন মাস্ক। তখন তিনি অল্টম্যানের বিরুদ্ধে করপোরেট প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, মুনাফার পেছনে ছুটতে গিয়ে অল্টম্যান মানবজাতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
মামলার শুনানি চলাকালে অল্টম্যান, ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান, ইলন মাস্ক এবং তাঁর সাবেক বান্ধবী ও সহকর্মী শিবন জিলিসের মধ্যে আদান-প্রদান করা ইমেল ও টেক্সট মেসেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ওপেনএআই-এর আইনজীবীরা এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, কোম্পানিটির করপোরেট কাঠামো পরিবর্তনের আলোচনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।
আদালতে দেখানো নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অলাভজনক সংস্থা হিসেবে ওপেনএআইয়ের টিকে থাকা অসম্ভব মনে হতে থাকে। বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে শত শত কোটি ডলার সংগ্রহের প্রয়োজনে কাঠামো পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ সম্পর্কিত আলোচনায় মাস্ক নিজেও যুক্ত ছিলেন।
ব্রকম্যান এবং ওপেনএআই-এর আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুতস্কেভার তখন সংস্থাটিকে একটি ‘বি কর্প’-এ রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বি কর্প হলো এমন এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যা মুনাফার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক বা সেবামূলক লক্ষ্য পূরণে দায়বদ্ধ থাকে।
জিলিসের পাঠানো কিছু ইমেল থেকে জানা যায়, মাস্ক ওপেনএআই-এর ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন। তিনি বোর্ডে সদস্য বাড়াতে এবং এমনকি ওপেনএআইকে টেসলার অধীনে একটি ‘বি কর্প’ সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। একটি লিখিত বার্তায় জিলিস জানিয়েছিলেন, ওপেনএআই যদি টেসলার অংশ হয়, তবে অর্থায়ন সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হতো।
ওপেনএআই-এর আইনজীবীরা জানান, এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মাস্ক। তিনি বড় ধরনের অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় জিলিস কোম্পানির গোপন তথ্য মাস্কের কাছে পাচার করেছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে জিলিস ওপেনএআইয়ের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। ঠিক সে সময় মাস্ক তাঁর নতুন এআই কোম্পানি এক্সএআই চালু করেন। পরে এর চ্যাটবট (গ্রোক) বাজারে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে।