হরমুজ প্রণালি বন্ধে সবচেয়ে বেশি ভুগছে যেসব দেশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ৯৫টি দেশে পেট্রলের দাম বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে গাড়িচালকরা ইতোমধ্যেই এই যুদ্ধের প্রভাব টের পাচ্ছেন।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৪ ডলার। এখন তা ৩ দশমিক ৫৮ ডলার- অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্বভাবে পেট্রলের দাম নির্ধারণ করে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ ডলারে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে।

প্রায় ১৫০টি দেশে জ্বালানির খুচরা মূল্য পর্যবেক্ষণ করে গ্লোবাল পেট্রল প্রাইস নামের প্ল্যাটফর্ম। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর অন্তত ৮৫টি দেশে পেট্রলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশ মাসের শেষে দাম সমন্বয় করে। তাই এপ্রিল মাসে আরও দেশে দাম বাড়ার খবর আসতে পারে।

দাম বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষে আছে কম্বোডিয়া। এশিয়ার দেশটিতে উন্নতমানের ৯৫-অকটেনের দাম প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতি লিটারের দাম ছিল ১ দশমিক ১১, এখন তা ১ দশমিক ৩২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, ভিয়েতনামে ৫০, নাইজেরিয়ায় ৩৫ এবং লাওসে ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।

আলজাজিরার ওয়েবসাইটে দাম বৃদ্ধির দিক থেকে ভুক্তভোগী ৯৫টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ১০টি। কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া ও লাওস বাদে বাকিগুলো হলো- কানাডা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর। ৯৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব পূর্ব এশিয়ার তুলনায় বেশি তীব্র। কারণ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর আর্থিক সুরক্ষা ভাণ্ডার তুলনামূলকভাবে কম এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুতও সীমিত।

জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশ সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সরকারি দপ্তরগুলো সপ্তাহে চারদিন খোলা থাকছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে অফিস করানোর নীতি নিয়েছে ইসলামাবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *