কক্সবাজারে খাবার খেয়ে অসুস্থ ৩০ পর্যটক

কক্সবাজারে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেড়াতে আসা ৩০ জন পর্যটক। শহরের কলাতলীর সুগন্ধা এলাকার আল–গণি নামের রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ হওয়া পর্যটকরা সবাই রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষাসফরের সদস্য।

অসুস্থদের ১১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেেেলা বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি দেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনার অভিযোগ পেয়ে গতকাল দুপুরে অভিযুক্ত আল–গণি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিক্ষাসফরের সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৩০ জনের একটি দল ভ্রমণে কক্সবাজারে আসেন। সৈকত ভ্রমণের আনন্দঘন দিন শেষে রাতে তারা শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের আল–গণি রেস্টুরেন্টে বারবিকিউ খেতে যান। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একজন–দু’জন করে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও ধীরে ধীরে প্রায় সবাই একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন। শুরু হয় বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেট ব্যথা। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে রাতেই তাদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানবী জান্নাত জানিয়েছেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে আক্রান্ত পর্যটকরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে একটি গ্রুপের ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ দেখা গেছে।’ তিনি জানান, অসুস্থার পরিস্থিতি মোতাবেক ১১জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। অবশিষ্ট ১৯ জনকে কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে শনিবার দুপুরের দিকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন আক্ষেপ নিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমরা আনন্দ নিয়ে শিক্ষা সফরে এসেছিলাম। কিন্তু রাতে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’ এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযান চালায় আল–গণি রেস্টুরেন্টের সুগন্ধা পয়েন্ট শাখায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ জানান, অভিযানে খাবার তৈরির স্থান অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একইদিন শহরের হোটেল সী প্যালেসের রেস্টুরেন্টেও অভিযান চালিয়েও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ বলেছেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রপার হাইজিন মেইনটেইন না করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। খাবার তৈরির পরিবেশও সন্তোষজনক ছিল না।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল–গণি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, তাদের রেস্টুরেন্টের খাবার নয়, বরং সৈকত এলাকার অন্য কোনো খাবার খেয়ে পর্যটকেরা অসুস্থ হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *