‘ধারাবাহিকতার অভাবই বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে’

সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৫০ রানের লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটাররা সেই লক্ষ্য তাড়া করার মতো ব্যাটিং করতে পারেননি। পুরো টুর্নামেন্টেই ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। ভারতের কাছে হেরে বিদায়ের পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও মনে করছেন, দলের এই ধারাবাহিকতার অভাবই শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর নিগার বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই এটা আমাদের জন্য সমস্যা, একটা দৃশ্যমান সমস্যা। আমি একটি বিষয় উল্লেখ করতে পারি, সেটা হলো ধারাবাহিকতা অবশ্যই। শেষ দুই ম্যাচে যারা রান করেছে, তারা এখানে রান করতে পারেনি। তাই আমার মনে হয়, ধারাবাহিকতা ছিল না, আর সেটাই আমাদের দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। শুধু এই টুর্নামেন্ট নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে দলের ব্যাটারদের। নতুন কিংবা পুররেনা কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। এমনকি খর্বশক্তির সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাত্র ১০০ রান করতে ঘাম ছুটে গেছে! যদিও শেষ পর্যন্ত জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা আর পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না’। টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনেও ছিল ব্যাটিং নিয়ে দলের অনিশ্চয়তা। নিগার জানান, শেষ তিন ম্যাচে বোলাররা ভালো করায় তাঁদের ওপর ভরসা রেখেই ভারতকে এমন সংগ্রহে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন, যেটা পরে তাড়া করা সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে দলের অধিনায়ক নিগার বলেছেন, শেষ তিন ম্যাচে আমাদের বোলাররা খুব ভালো করছে। কিন্তু আমরা ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করছি। তাই আমরা সত্যিই আমাদের বোলারদের এমন একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম, যাতে তারা আমাদের একটা সুযোগ এনে দিতে পারে এবং আমরা ব্যাট করতে পারি। ভারতকে ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ দিকে রিচা ঘোষ ও হারমানপ্রীত কৌরের ব্যাটে ভারত দ্রুত রান তুলে ১৫০ রানে পৌঁছে যায়। নিগারের মতে, সেখানেই ম্যাচের চিত্র অনেকটা বদলে যায়, ‘আমরা সত্যিই চেয়েছিলাম তাদের এমন একটা রানের মধ্যে আটকে রাখতে, যেটা আমরা তাড়া করতে পারি। কোনোভাবে সেটা হয়নি। আমরা আসলে ভেবেছিলাম, উইকেটটা একটু ধীরগতির হবে। কারণ আমরা তিনটি ম্যাচ খেলেছি এবং তখন ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটা যথেষ্ট ভালো ছিল না। মাঝের ওভারগুলোতে তাঁর দলের স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ীই বোলিং করেছেন। কিন্তু শেষ তিন–চার ওভারে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রান দিয়ে ফেলায় ভারতকে বড় সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ‘শেষ তিন ওভারে আমরা অনেক রান দিয়েছি এবং তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। কারণ রিচা ছিল এবং ইনিংসের শেষদিকে হারমানও খুব ভালো খেলছিল। তাই তারা শেষ তিন ওভারে রান পেয়েছে। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে, আমার মনে হয়, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। কারণ স্পিনাররা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খুব ভালো বোলিং করেছে। তবে ভারতকে ১৩০ কিংবা ১৩৫ রানে আটকে রাখতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলেও মনে করেন নিগার, শেষ তিন–চার ওভারে আমরা অনেক রান দিয়েছি। আমরা যদি তাদের ১৩০ বা ১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারতাম, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের জন্য পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। শেফালি ভার্মার ক্যাচ দ্বিতীয় ওভারেই লং–অনে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। এরপর বড় ইনিংস খেলেন ভারতের এই ওপেনার।

ম্যাচে বাংলাদেশের পাঁচটি ক্যাচ পড়ার বিষয়টিও নিগারের কাছে ছিল বড় হতাশার, খুবই হতাশ। কারণ শেষ তিন ম্যাচে এই জায়গাটিতেই আমরা খুব ভালো করছিলাম। শেষ তিন ম্যাচে আমরা খুব ভালো ফিল্ডিং করেছি। ব্যাটিংয়ে ধস নামুক, বোলিংয়ে ধস নামুক–যাই হোক না কেন, আমরা খুব ভালো ফিল্ডিং করেছি। তাই এটা সত্যিই হতাশাজনক। কারণ ব্যাটিং বা বোলিংয়ের তুলনায় এটাই ছিল আমাদের যে জায়গাটা সবচেয়ে ভালো ছিল। শেফালির ক্যাচ ফেলে দেওয়ার প্রসঙ্গে নিগার বলেন, আমরা যদি সেটা ধরে রাখতে পারতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু কখনো কখনো এমন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *