স্টাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে চট্টগ্রামের কিপার

বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচটি ভুলে যাওয়ার মতোই ছিল অ্যাডাম রসিংটনের। ব্যাটিংয়ে আউট হয়েছিলেন মাত্র ১ রানে, কিপিংয়ে পাননি কোনো ডিসমিসাল। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি এমন কীর্তি গড়লেন, যা ভুলে যেতে চাইবেন না কখনোই। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ইংলিশ কিপার নাম লেখালেন স্টাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে। বিপিএলে গতকাল শুক্রবার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে চারটি স্টাম্পিং করেন রসিংটন। বিপিএলে এই প্রথম এক ম্যাচে চারটি স্টাম্পিংয়ের স্বাদ পেলেন কোনো কিপার। বিশ্বরেকর্ডে রসিংটনের নাম খোদাই হয়ে গেছে আরও ছয় কিপারের সঙ্গে। সেখানে আছেন বাংলাদেশের ধীমান ঘোষও। তিনি রেকর্ডটি গড়েছিলেন জাতীয় লিগ টি–টোয়েন্টির ম্যাচে। রসিংটনের কীর্তির শুরুটা উসমান খানকে দিয়ে। তানভির ইসলামের বাঁহাতি স্পিনে দারুণ ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পিং করেন তিনি ঢাকার পাকিস্তানি ব্যাটারকে। এরপর রসিংটনের শিকার শামীম হোসেন। আগের দিন ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা ব্যাটার এবার ৭ বলে ৪ রান করে ফেরেন শেখ মেহেদি হাসানের বলে। আবার চোখের পলকে বেলস ফেলে দেন রসিংটন। পরে আবার পরপর দুই ওভারে স্টাম্পিং করেন তিনি সাব্বির রহমান ও ইমাদ ওয়াসিমকে। বোলার ছিলেন সেই মেহেদি ও তানভির। প্রথম কিপার হিসেবে এক ম্যাচে পাঁচ স্টাম্পিংয়ের নজির গড়ার হাতছানি তখন তার সামনে। তবে আর কোনো সুযোগ তিনি পাননি। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ম্যাচে চার স্টাম্পিং প্রথম করেন টনি ফ্রস্ট। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের টি–টোয়েন্টি কাপে গ্ল্যামোরগনের বিপক্ষে এই নৈপুণ্য দেখান ওয়ারউইকশায়ারের কিপার। পরে ২০০৭ সালে ভারতের দিনেশ কার্তিক, ২০০৯ সালে পাকিস্তানে কামরান আকমাল, ২০১০ সালে বাংলাদেশের ধিমান, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনেশ রামদিন ও গত বছর শ্রীলঙ্কার লাহিরু দাওয়াতাগে নাম তোলেন রেকর্ড বইয়ের এই পাতায়। ধীমানের চার স্টাম্পিং ছিল জাতীয় লিগে সিলেট বিভাগের হয়ে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এটি করতে পেরেছেন কেবল ২০০৯ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আকমল ও ২০১৪ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে রামদিন। বিপিএলে এর আগে এক ম্যাচে তিন স্টাম্পিংয়ের নজির ছিল স্রেফ দুটি। দুটিই ছিল ২০১৬ আসরে। রংপুর রাইডার্সের হয়ে বরিশাল বুলসের বিপক্ষে করেছিলেন আফগান কিপার মোহাম্মদ শাহজাদ, রাজশাহী কিংসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে করেছিলেন পাকিস্তানি উমার আকমল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *