খালাসের সময় গ্যান্ট্রি ক্রেনের তার ছিঁড়ে পড়ে গেল কন্টেনার

চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনালের (সিসিটি) ৩ নম্বর জেটিতে নোঙর করা জাহাজ থেকে খালাসের সময় কী গ্যান্ট্রি ক্রেনের একটি তার (ওয়্যার রোপ/ক্যাবল) ছিঁড়ে কন্টেনার নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কাঠবোঝাই একটি কন্টেনার বহনকারী ট্রেইলার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তার ছিঁড়ে নিচে পড়া কন্টেনারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।

সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে সিসিটি–৩ জেটিতে নোঙর করা সিঙ্গাপুর থেকে আসা কন্টেনারবাহী জাহাজ চেং হাই থেকে আমদানিকৃত কাঠবোঝাই একটি কন্টেনার খালাস করা হচ্ছিল। এ সময় কী গ্যান্ট্রি ক্রেন–৪ দিয়ে ৪০ ফুটি কন্টেনারটি ট্রেইলারের ওপর নামানোর প্রক্রিয়ায় হঠাৎ ক্রেনের হোইস্টিং ওয়্যার রোপ ছিঁড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কন্টেনারটি সজোরে নিচে থাকা ট্রেইলারের ওপর আছড়ে পড়ে।

আঘাতে ট্রেইলারের পেছনের অংশ দুমড়ে–মুচড়ে যায় এবং কন্টেনারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কর্মরত শ্রমিক ও অপারেটররা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পরপর সংশ্লিষ্ট জেটিতে সাময়িকভাবে কন্টেনার খালাস কার্যক্রম বন্ধ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেইলার ও কন্টেনার সরিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত কন্টেনার নিরাপদে অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। রোববার (আজ) সকাল থেকে কী গ্যান্ট্রি ক্রেন–৪–এর মেরামত কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটি–৩–এর দুর্ঘটনাকবলিত নির্দিষ্ট অপারেশনাল স্পট ছাড়া বন্দরের অন্যান্য সব বার্থে কন্টেনার হ্যান্ডলিং ও সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। ফলে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশন বা জাহাজের পণ্য খালাসে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

  1. বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সুপারিশ তুলে ধরা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *