জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নিহত ১৬৪

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহতের সংখ্যা ৯৭১। ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। অর্থাৎ, ১২৬ বছরের মধ্যে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হল দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এর ধারণা মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখে যেতে পারে। এই ভূতাত্ত্বিক সংস্থাটি বলেছে, ‘প্রচুর হতাহত আর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগটি সম্ভবত ব্যাপক।’ বিজ্ঞানীরাও ভেনেজুয়েলাজুড়ে সম্ভাব্য ব্যাপক হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময় অনুসারে) ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২। দ্বিতীয়টির ৭.৫। এর আগে ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে এ রকম শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘সান নার্সিসো ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত। বুধবারের ভূমিকম্পে কারাকাসের সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–সহ দেশের একাধিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু বাড়িঘর, শিল্প পরিকাঠামো। বন্দরশহর লা গুয়াইরা পুরোপুরি বিধ্বস্ত। এমনকি, কারাকাস থেকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৭৭ লক্ষ নাগরিক। সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প হওয়ায় ভেনেজুয়েলার অনেক মানুষ বাসাতেই ছিলেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, বুধবার আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। দফায় দফায় এই পরাঘাতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বহু বাড়িঘরের বিশাল ধ্বংসস্তূপের কারণে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ হওয়াদের এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *