চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে রোগীর চাপ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালের ৫০ বেডের হাম ব্লকে ভর্তি রোগী শতাধিক। এছাড়া দ্বিতীয় তলার শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের ১৬ বেডের ব্লকেও রয়েছে দ্বিগুণ রোগী। জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে একই বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম ছোঁয়াছে রোগ হওয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি কোনো শিশু যদি হাম আক্রান্ত হয়েও থাকে, তার সংস্পর্শে অন্য শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত বেডের মধ্যে তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশুর বয়স ২ বছরের কম। এরমধ্যে আবার অনেক শিশুর টিকা দেয়ার বয়সও হয়নি। আবার অনেক শিশুকে হামের টিকা দেয়নি, অনেকে এক ডোজ দিয়েছে। একদমই দেয়নি এরকম শিশুও রয়েছে।

হামের প্রকোপ বাড়ার কারণে গত ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম–রুবেলার টিকা দেয়া হয়। মাসব্যাপী চলা সেই ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রাম উপজেলা ও নগরীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে হাম–রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। তারপরেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এছাড়া অনেক শিশু পরীক্ষার বাইরে থাকায় হামের সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হলেও পরীক্ষার বাইরে থাকায় বা পরীক্ষা না হওয়ায় তাদের হাম হয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত হাম ব্লকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি রয়েছে ১৩৩ জন। এরমধ্যে নিচতলার হাম ব্লকে ৯১ জন, দ্বিতীয় তলার ব্লকে ৩২ জন এবং পিআইসিইউ’তে ১০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি–হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতা হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। তবে হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেসব শিশু নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ খায় এবং ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি নেই তাদের হাম হওয়ার সম্ভাবনা কম। হাম প্রতিরোধের জন্য শিশুদের অপুষ্টি রোধ করা জরুরি। হাম এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। যাদের ভিটামিনের ঘাটতি হয় এবং অপুষ্টিতে ভোগে, তাদের হাম হলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। নিয়মিত চিকিৎসায় বেশিরভাগ শিশু ভালো হয়ে যায়। হাম ছোঁয়াছে হওয়ার কারণে রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে হামের উপসর্গের দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে যদি কোনো শিশুর জ্বরের সাথে কফ, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং র‌্যাশ আসে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ এই রোগে নিউমোনিয়াও হতে পারে। বাসায় নিয়ে বসে থাকলে বিপদ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। হাম রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, হামের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে আসা অনেক শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে। হামের রোগীদের আমরা আলাদা করে চিকিৎসা দিচ্ছি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, আমরা হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দিচ্ছি। নির্ধারিত সংখ্যার রোগীর চাপ বাড়ছে, এটি ঠিক। তবে আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *