ভিয়েতনাম ও চীনে টাইফুন নারার তাণ্ডব, বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যয়

শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নারা’র প্রভাবে সৃষ্ট মুষলধারে বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ চীনের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রলয়ঙ্করী এই ঝড়ে সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মূল অবকাঠামো এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি–র তথ্যানুযায়ী, নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৮৭ জন বাসিন্দা বর্তমানে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। বন্যায় চীনের অন্তত ১৫টি নদীর পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। প্রকাশিত চিত্রে দেখা গেছে, গুয়াংসি অঞ্চলের চোংজু শহরের সড়ক ও একতলা বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

রবারের বুট পরে হাঁটু সমান পানিতে নেমে এবং ছোট নৌকার সাহায্যে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গুয়াংসি, গুয়াংডং, হাইনান ও ফুজিয়ান প্রদেশে আগামী বুধবার পর্যন্ত এই মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি প্রদেশ লাং সান ও কাও ব্যাং–এ সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৩৬ থেকে ৩০০ মিলিমিটার (৯ থেকে ১২ ইঞ্চি) রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়। এতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে এবং ভূমিধস হয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪,৩০০–র বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হা লং বে’র জন্য পরিচিত কুয়াং নিন প্রদেশও প্লাবিত হওয়ায় সেখানে পর্যটন, মাছ ধরা ও পরিবহন ব্যবস্থা থমকে গেছে। ঝড়ের কারণে স্কুল ও সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫৫ হাজার পরিবার এবং ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান ও অন্যান্য ফসল ধ্বংস হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাইফুন নারা বর্তমানে বেইবু উপসাগরে (যা টনকিন উপসাগর নামেও পরিচিত) অবস্থান করছে। এটি আর নতুন করে স্থলাভাগে আঘাত হানবে না, তবে এর প্রভাবে উত্তর ভিয়েতনাম ও চীনের উত্তরাঞ্চলে আরও কয়েকদিন টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *