চতুর্থবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন অভিনেত্রী, সারলেন বাগদান

ছয় বছর আগে, করোনা ভাইরাসের ভয়াল গ্রাসে যখন পৃথিবী থমকে গিয়েছিল, তখনই যেন নিঃশব্দে শুরু হয়েছিল আরেকটি গল্প। বাইরে কভিডের আতঙ্ক, ভেতরে মানুষের একাকিত্ব। সেই সময় অনলাইনের এক আড্ডায় পরিচয় হয় দুই ভিন্ন জগতের মানুষ। একজন অস্কারজয়ী হলিউড তারকা, অন্যজন গ্র্যামিজয়ী সংগীতশিল্পী। তারা হলেন হ্যালি বেরি ও ভ্যান হান্ট। নাম দুটি তখনও আলাদা আলাদা আলোয় ঝলমল করছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলো মিলেমিশে এক সম্পর্কের আকাশ তৈরি করেছিল।

প্রথমদিকে সে সম্পর্ক ছিল নিভৃত, অনেকটা ব্যক্তিগত। ইনস্টাগ্রামের ছবিতে, একটি ক্যাপশনে, হ্যালি বেরি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। হ্যাঁ, তিনি প্রেমে আছেন। ২০২০ সালের সেই ঘোষণা ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু গভীর। এরপর ধীরে ধীরে ভ্যান হান্ট হয়ে উঠলেন তাঁর জীবনের নিয়মিত সঙ্গী।

২০২১ সালে অস্কারের লালগালিচায় যখন দুজন একসঙ্গে হাজির হলেন, তখনই যেন গল্পটি প্রকাশ্যে এলো। আলো, ক্যামেরা আর শিরোনামের ভিড়ে। তবে এই সম্পর্ক কখনও ছিল তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের গল্প নয়।

হ্যালি বেরির জীবনে বিয়ে এসেছে তিনবার। প্রতিবারই ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন অভিজ্ঞতা, আর ভিন্ন ক্ষত। তাই ভালোবাসা থাকলেও ‘বিয়ে’ শব্দটি তার কাছে ছিল ভাবনার, আত্মসমীক্ষার বিষয়। ভ্যান হান্টও তা জানতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু হ্যালি তখন কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। পুরোনো অভিজ্ঞতার ভার হয়তো তখনও পুরো নামেনি।

সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল হঠাৎ করেই, এক টকশোর মঞ্চে। জিমি ফ্যালনের ‘দ্য টুনাইট শো’তে হাজির হয়ে হ্যালি বেরি নিজেই বললেন সেই কথা, যা ভক্তরা এতদিন শুনতে চাইছিলেন। হাসিমুখে, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তিনি জানালেন। তারা বিয়ে করবেন। তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, কিন্তু সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার।

কেউ কেউ ভেবেছিল, তিনি নাকি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। হ্যালি স্পষ্ট করলেন, ‘আমি না বলিনি। আমি শুধু বলেছি। এখনও সময় ঠিক হয়নি। অবশ্যই আমি তাঁকে বিয়ে করতে রাজি।’

কথার ফাঁকে ক্যামেরার দিকে এগিয়ে এলো তাঁর আঙুল। আলোয় ঝিলমিল করল বাগ্‌দানের আংটি। জিমি ফ্যালন মজা করে আংটির আকার নিয়ে মন্তব্য করতেই হ্যালির মুখে ছড়িয়ে পড়ল খোলামেলা হাসি ‘হ্যাঁ, সে একটা ছোট্ট আংটি পরিয়ে দিয়েছে।’ সেই হাসিতে ছিল স্বস্তি, ছিল নিশ্চয়তা, ছিল বহু বছরের অপেক্ষার পর পাওয়া এক শান্তির ছায়া। 

হ্যালি আগেও বলেছেন, ভ্যান হান্টের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অন্য সব সম্পর্কের চেয়ে আলাদা। এখানে নেই কোনো তাড়া, নেই সামাজিক চাপ। আছে বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব আর পরিণত ভালোবাসা। তাঁর ভাষায়, ভ্যানই সেই মানুষ, যাঁকে তাঁর আগে বিয়ে করা উচিত ছিল। দুজনের জগৎ আলাদা– একজন সিনেমার পর্দায়, অন্যজন সংগীতের মঞ্চে। তবু মাঝখানে তৈরি হয়েছে ভালোবাসা। যেখানে খ্যাতির চেয়ে মানুষটাই বড়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *