শীতকালে আমাদের দেশে শত রকমের ফুল ফোটে। এ ফুলগুলোকে বলা হয় শীতের মৌসুমি ফুল। এর প্রায় সব ফুলই ফোটে সাধারণত উন্মুক্ত বাগানে বা টবে। গাঁদা ও গোলাপ ফুল হলো শীতকালের প্রতিনিধি। সম্প্রতি সাভারের এক নার্সারিতে এমন একটি ফুলের দেখা পেলাম, যেটি ফোটে ঘরের মধ্যে, মানে অন্দর বাগানে।
সচরাচর অন্দর বাগানের গাছগুলো হয় পত্রশোভিত, ফুল সেখানে গৌণ। এ গাছটির ক্ষেত্রে তা যেন আলাদা। এ গাছের পাতার চেয়ে ফুলই বেশি সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী। দীর্ঘদিন ধরে শীতের ফুলগুলোকে দেখছি আর প্রতিবছরই তালিকায় নতুন কিছু ফুলের নাম যোগ করতে হচ্ছে। হয় সেগুলোকে আগে চোখে পড়েনি নতুবা নবাগত। এমনই এক ফুলের নাম জার্মান প্রিমরোজ বা প্রিমরোজ। নার্সারির লোকেরা একে প্রিমুলা বলে ডাকেন। কেননা, এটি এ ফুলের গণগত নাম, প্রজাতি Primula obconica, গোত্র প্রিমুলেসি। প্রিমরোজ নামটা হয়েছে বোধ হয় আদি গোলাপের সঙ্গে এ ফুলের চেহারার কিছুটা মিল থাকায়। তা ছাড়া প্রিমরোজ ফুলটাও প্রাচীন কালের। ফুলগুলো দেখতে ঠিক একহারা গোলাপের মতো। এ জন্যই বোধ হয় এ ফুলের নাম হয়েছে প্রিমরোজ।
সাভারে বরিশাল নার্সারির ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন জানালেন, তারা এর চারা এনেছেন ভারত থেকে। করোনাকালের আগেই এ গাছ এ দেশে এসেছে। তখন থেকেই প্রতিবছর শীতে ফুল দেখছেন। শীতের শুরুতে ফোটে না। ফোটে একটু বেশি শীত পড়লে। শীত যতদিন থাকবে, ফুলও ততদিন থাকবে।
ফোটা ফুল কয়েক দিন থাকে, নতুন করে মঞ্জরিতে আরও ফুল ফুটতে থাকে। শেষে পুরো পুষ্পমঞ্জরি খোঁপার মতো হয়ে যায়। বীজ থেকে চারা করা যায়। কিন্তু বীজের গাছে ঠিকমতো ফুল ফোটে না এবং সেরকম রংও আসে না। সেজন্য প্রতিবছরই তারা ছোট ছোট চারা ভারত থেকে নিয়ে আসেন বলে জানালেন।
চীন দেশে এ ফুলের জন্ম অথচ নাম জার্মান প্রিমরোজ। বাংলাদেশে সম্প্রতি এ ফুল দেখা যাচ্ছে। স্বল্পায়ু চিরসবুজ এ ফুলের গাছ বেশ ছোট, উচ্চতা বড়জোর ৪০ সেন্টিমিটার। গাছের গোড়ায় পাতা জন্মে আবর্তাকারে। পাতা হৃৎপিণ্ডাকার, কিছুটা গোলাকার, পুরু, সবুজ, চওড়া, কিনারা ঢেউ খেলানো। পাতায় সূক্ষ্ম পশম থাকায় তা মখমলের মতো মনে হয়। এসব পশম গায়ে লাগলে অনেক সময় চুলকায়। পাতাগুলোর মাঝখান থেকে একটি লম্বা মোটা ডাঁটি বা দণ্ডের মাথায় ছাতার মতো ছড়ানো পুষ্পমঞ্জরিতে অনেক ফুল ফোটে। ফুলগুলো খোঁপার মতো সজ্জিত।
ফুলের রং প্রধানত মিষ্টি গোলাপি ও সাদা। ঘনবেগুনি, লাল, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি রঙেরও ফুল আছে। মিশ্রবর্ণের ফুলও দেখা যায়। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নামের শেষাংশ অবকোনিয়া অর্থ ওল্টানো শামুক বা শঙ্কু, ফুলগুলো উত্তল বলেই এরূপ নামকরণ। জার্মান প্রিমরোজের অনেক জাত আছে। এগুলোর মধ্যে ‘লিব্রা ম্যাজেন্টা’ জাতটি বেশ জনপ্রিয়।
প্রিমরোজ বর্ষজীবী বিরুৎ শ্রেণির চিরসবুজ গাছ। বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। চারা বা তরুণ গাছ ছায়ায় রাখতে হয়। টবে ও মাটিতে চারা লাগানো যায়। প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে গাছ রাখা ভালো। এ গাছের জন্য পরোক্ষ আলো ও শীতল আবহাওয়া দরকার। পোষা প্রাণীদের নাগালের বাইরে এ গাছ রাখতে হবে। কুকুর-বিড়াল এ গাছের পাতা খেলে তাদের বমি হয়।