বাংলার রাজকীয় তাঁত ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে ‘সোনার তরী’-র যাত্রা শুরু

বাংলার হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় তাঁত ঐতিহ্য এবং কারুশিল্পকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রূপে ফিরিয়ে আনতে যাত্রা শুরু করলো নতুন ফ্যাশন হাউস ‘সোনার তরী’। ‘আর্থ’স অ্যান্টস’ (Earth’s Ants)-এর একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে এই ব্র্যান্ডটি কাজ করবে। মূলত টাঙ্গাইল ও বালুচরীর ঐতিহ্যবাহী বুনন শৈলীকে বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।

বর্তমান বিশ্বে যখন ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল সস্তা পোশাকের আধিপত্য বাড়ছে, তখন ‘সোনার তরী’ নিয়ে এসেছে ‘স্লো ফ্যাশন’-এর ধারণা। পরিবেশের ক্ষতি না করে এবং কারিগরদের নায্য অধিকার নিশ্চিত করে পোশাক তৈরির এই আন্দোলনটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

সোনার তরী-র প্রতিটি সৃষ্টিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ নারী তাঁতি ও কারিগরদের। ব্র্যান্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের লক্ষ্য কেবল পোশাক তৈরি নয়, বরং একটি বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং প্রান্তিক কারিগরদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এতে যেমন থাকছে আভিজাত্যের ছোঁয়া, তেমনি রয়েছে পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য: উদ্যোগটি সম্পর্কে ‘আর্থ’স অ্যান্টস’-এর প্রতিনিধি বলেন, “সোনার তরী কেবল একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড নয়, এটি আমাদের মাটির গল্প। আমরা চাই আমাদের কারিগররা যেন সম্মানের সাথে কাজ করতে পারেন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বাংলার এই গৌরবময় বুনন শিল্পের সাথে পরিচিত হতে পারে। আমরা প্রতিটি ধাপে নৈতিকতা এবং স্থায়িত্ব (Sustainability) বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সোনার তরী-র বিশেষত্ব:

ঐতিহ্যের পুনর্জন্ম: টাঙ্গাইল এবং বালুচরীর মতো প্রাচীন বুনন শিল্পের আধুনিকায়ন।

কারিগর কেন্দ্রিক: নারী তাঁতি এবং গ্রামীণ শিল্পীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

পরিবেশবান্ধব: টেকসই উপকরণ এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে পোশাক উৎপাদন।

দায়িত্বশীল বিলাসিতা: রুচিশীল গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ও আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের এই সোনালী ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সোনার তরী একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *