সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সতর্কতা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের এই চলে যাওয়াতে একটি আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, সংস্থাটি ছাড়ার আগে বকেয়া বাবদ ২৬ কোটি ডলার (২৬০ মিলিয়ন) পরিশোধ করার কথা থাকলেও ওয়াশিংটন তা এখনো করেনি। বিশেষজ্ঞরা একে মার্কিন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ত্যাগের নোটিস দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, এক বছর আগে নোটিস প্রদান এবং সব বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে সদস্যপদ ত্যাগ করা যায়।
সেই সময়সীমা অনুযায়ী আজই চূড়ান্ত বিদায় নেওয়ার দিন ধার্য ছিল। বিদায়ের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে গত এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেডরোস আডানম গ্রেব্রিয়াসিস বলেন, আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ফিরে আসবে। ডব্লিউএইচও থেকে নাম প্রত্যাহার করা যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি বিশ্ব উভয় পক্ষের জন্যই পরাজয়। একই সুর শোনা গেছে বিল গেটসের কণ্ঠেও। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমি মনে করি না অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফিরবে। তবে সুযোগ পেলে আমি এর পক্ষে কথা বলব।
বিশ্বের জন্য এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে খুব প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানে গভীর বাজেট সংকটে পড়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশ আসত ওয়াশিংটন থেকে। অর্থ সংকটের কারণে সংস্থাটি তাদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ অর্ধেক কমিয়ে এনেছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট কাটছাঁট করেছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সংস্থাটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।