লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পূর্ব বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এ্যানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দুই শীর্ষ নেতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ এবং মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ্যানিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, এ্যানির বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং মিথ্যা-বানোয়াট ছিল, যা ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর সাহেব সম্পর্কে অশ্লীল এবং অশালীন মন্তব্য করেছে। এ ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য রাজনৈতিক এবং সচেতন মহলকে ব্যথিত করেছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, এ্যানি চৌধুরী এমন একজন ব্যক্তি যিনি এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। তারা বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি হলো ডিরেক্ট স্বৈরাচারের সঙ্গী, কারণ তারা ২০১৮ সালের অবৈধ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ছয়জন এমপি পাঠিয়েছে সংসদে।”
দুটি নেতা বলেন, বিএনপি এখন আবোল তাবোল বলার মাধ্যমে নিজেদের দোষ আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং পাবলিক সেন্টিমেন্ট ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চাইছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, বিএনপি মিথ্যা ছাড়া কিছু বলতে পারে না এবং এ্যানির বক্তব্যকে তারা মিথ্যা ও কুৎসা হিসেবে অভিহিত করেন। তারা দাবি করেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চই বিএনপির পদচারী পথ হতে বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, তারা বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন এবং ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো ৫ আগস্টের পর থেকেই বিএনপির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিএনপি ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটাচ্ছে, কারণ তারা জানে ইসলামী রাজনৈতিক জোটের ভরাডুবি নিশ্চিত।
এ্যানির বক্তব্যে, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এই চরমোনাই পীর এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ২০১৪, ২০১৮, ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে হাসিনাকে সহায়তা করেছে এবং বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।”
এ্যানি আরো দাবি করেন, ইসলামি দলগুলো আজকাল নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, কিন্তু ১৭ বছর ধরে যে সংগ্রাম বিএনপি করেছে, তাতে এসব দল কিছুই করতে পারেনি।
এছাড়া, এ্যানি বলেন, “ঐক্যই হলো শক্তি” এবং বিএনপি জিয়াউর রহমানের নির্দেশিত ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যার নেতৃত্বে তিনি তারেক রহমানের নামে বাংলাদেশের ভবিষ্যত দেখতে চান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘোষণায় যে এ্যানির ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে যখন ইসলামী আন্দোলন এবং বিএনপি রাজনৈতিক অঙ্গনে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী।