সাইলেন্ট ওয়াকিং কি সত্যিই মানসিক চাপ কমায়?

অনেকেরই সকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটার অভ্যাস রয়েছে। কেউ কেউ হাঁটতে হাঁটতে হেডফোনে গান শুনেন, কেউ আবার এ সময় ফোনে জরুরি কথা সেরে ফেলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাইলেন্ট ওয়াকিং’ নামে একটা টেন্ড ভাইরাল হয়েছে। এর অর্থ হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করা যাবে না, ফোনে গান বা পডকাস্ট শোনা যাবে না। এমনকি সামাজিক মাধ্যম দেখতে দেখতেও হাঁটা যাবে না ৷ বরং চারপাশের পরিবেশ, নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীরের গতিবিধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

কেন এই ট্রেন্ড?

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সময় কাটে ফোন বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থেকে। মস্তিষ্ক সবসময় তথ্যের চাপের মধ্যেই থাকে৷ বিশ্রাম হয় না। সাইলেন্ট ওয়াকিংয়ে কিছু সময়ের জন্য ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হয়৷ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য এই অভ্যাস জনপ্রিয় হয়েছে৷ 

সাইলেন্ট ওয়াকিংয়ে কি মানসিক চাপ কমে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটলে শরীর আর মন ভাল থাকে৷ তবে এই অভ্যাস যদি শান্ত পরিবেশে করা যায় তাহলে আরও উপকার পাওয়া যায়। যেমন-

১. মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে সাইলেন্ট ওয়াকিং। হাঁটার সময় চারপাশের শব্দ, বাতাস বা প্রকৃতির দিকে মন দিলে মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পায়। এতে মানসিক চাপ কমতে পারে।
২. ফোনে ব্যস্ত না থাকলে মানুষ নিজের ভাবনা ও অনুভূতির দিকে বেশি মন দিতে পারেন। এতে অনেক সময় চিন্তার পরিধি বাড়ে৷ 
৩. হালকা ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন নামের ‘ফিল-গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। ফলে হাঁটার পরে অনেকের মন হালকা লাগে।

৪. পার্ক বা খোলা জায়গায় হাঁটলে পাখির ডাক, বাতাস বা গাছের শব্দ মানসিকভাবে প্রশান্তির অনুভূতি দেয়।

কীভাবে শুরু করবেন? 

দিনে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে হাঁটুন। 
হাঁটার সময় ফোন সাইলেন্ট করে পকেটে রাখুন কিংবা ফোন রেখে হাঁটতে যান। 
চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *