সাহারা মরুভূমিতে তুষারপাত, এ রকমও সম্ভব? আচমকা শুনলে কেউ হয়তো বিশ্বাসও করবেন না। বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ মরুভূমি হিসেবে পরিচিত সাহারা মানেই প্রচ- গরম, তীব্র তাপপ্রবাহ আর চারদিকে শুধু বালি আর বালি। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে উত্তর আলজিরিয়ায় সাহারার কিছু অংশে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সোনালি বালি ঢেকে গেল সাদা তুষারে।
জানা গিয়েছে, ১৭ জানুয়ারির আশপাশে এই বিরল তুষারপাত দেখা যায় আলজিরিয়ার আইন সেফ্রা অঞ্চলে। সাহারার উত্তরের প্রান্তে অবস্থিত এই শহরটিকে ‘গেটওয়ে টু দ্য ডেজার্ট’ বলা হয়ে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে বালির ওপর জমে থাকা তুষার দেখা যায়। যা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার প্রধান কারণ ছিল ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণমুখী এক শক্তিশালী ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহ। শীতকালে এমন ঠান্ডা বায়ুপ্রবাহ কখনো কখনো উত্তর আফ্রিকার দিকে নেমে আসে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সেই ঠান্ডা ঢেউয়ের প্রভাবে উত্তর আলজিরিয়ায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি, এমনকি কোথাও কোথাও তার নিচেও নেমে যায়।
একই সঙ্গে আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর থেকে আর্দ্র বাতাস স্থলভাগের দিকে টেনে আনে শীতকালীন হাওয়া। এই আর্দ্র বাতাস যখন সাহারার উত্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে সংস্পর্শে আসে তখনই তুষারপাতের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অনেকেই মনে করেন, সাহারা সব সময়ই ভীষণ গরম। বাস্তবে কিন্তু তেমনটা নয়। শীতকালে বিশেষ করে উঁচু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়। তুষারপাতের জন্য দরকার মূলত দুটো জিনিস, ঠান্ডা এবং আর্দ্রতা। সাহারায় আর্দ্রতা কম হলেও তা একেবারে যে নেই তেমনটা একেবারেই নয়। এক্ষেত্রে অ্যাটলাস পর্বতমালার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আর্দ্র বাতাস যখন পাহাড়ি অঞ্চলের ওপর দিয়ে উঠে যায়, তখন তা দ্রুত ঠান্ডা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প বরফ কণায় পরিণত হয় এবং মাটির তাপমাত্রা যথেষ্ট কম থাকলে তা তুষার হিসেবে নেমে আসে। আইন সেফ্রায় তুষারপাত বিরল হলেও একেবারে নতুন নয়।
এর আগে ১৯৭৯, ২০১৮, ২০২১ ও ২০২৩ সালেও এখানে তুষারপাতের নজির রয়েছে। সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা এক-দু’দিনের মধ্যেই মরুভূমির রোদে সেই তুষার গলে যায়। অনেক সময় বালির সঙ্গে মিশে কমলা বা লালচে আভাযুক্ত তুষারও দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঘটনাকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা যায় না।
তবে উষ্ণ আর্কটিক অঞ্চলের কারণে জেট স্ট্রিমের স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তন আসছে, যার ফলে অস্বাভাবিক জায়গায় চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া, সেটা অতিরিক্ত গরম হোক বা ঠান্ডা, এমন ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে। এর ফলে সাহারার মতো জায়গায় তুষারপাতের মতো বিরল ঘটনা আরও বেশি করে চোখে পড়তে পারে।