জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে। বুধবার পার্লামেন্টে স্টারমার স্বীকার করেন, সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জেনেও তাঁকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত করেছিলেন। ম্যান্ডেলসন এখন আর্থিক গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্তের মুখে আছেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
অন্যদিকে, নথিতে নাম থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। বিচার বিভাগ ও কংগ্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় তাঁকে স্টারমারের মতো জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকেও রাজকীয় পদবি ছাড়তে হয়েছে। এই কেলেঙ্কারি এখন নরওয়ে ও পোল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে। দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্টারমার জানান, তিনি দেশ পরিবর্তনের কাজে মনোযোগী।
এদিকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত হাজার হাজার নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে মার্কিন বিচার বিভাগের গাফিলতি সামনে এসেছে। এসব ফাইলে ভুক্তভোগীদের নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং পরিচয় গোপন রাখার কথা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এ ছাড়া এপস্টেইন রুশ গুপ্তচর ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তা হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন।
আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানান, ভুক্তভোগীরা নতুন করে ট্রমায় পড়েছেন। সুইস প্রাইভেট ব্যাংক ‘এডমন্ড ডি রথচাইল্ড’-এর প্রধান আরিয়ান ডি রথচাইল্ডের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে এপস্টেইনের গ্রেপ্তারের আগে পাঁচ বছর ধরে তাদের মধ্যে কয়েক ডজন ইমেইল আদান-প্রদান ও একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। নথিতে অপরাধের প্রমাণ না থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের প্রতিনিধি স্টেসি প্লাস্কেট সিনেট নেতা চাক শুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এপস্টেইনের সহায়তা চেয়েছিলেন।