ইউক্রেন যুদ্ধে সম্মুখসারিতে থাকা রুশ বাহিনীর ভেতরে নিজ সেনাদের ওপরই চরম নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া চারজন রুশ সেনার সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নিজ দেশের কমান্ডারদের হাতে সহযোদ্ধাদের খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা। তারা জানান, রাশিয়ার কমান্ডাররা যুদ্ধক্ষেত্রে নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানো সেনাদের সরাসরি গুলি করে হত্যা করছেন, যাকে সামরিক পরিভাষায় ‘জিরো’ করা বলা হচ্ছে। এই সেনারা বর্তমানে রাশিয়ার বাইরে গোপন স্থানে আত্মগোপনে থেকে এসব তথ্য ফাঁস করেছেন।
সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী সেনা জানান, ২০২৪ সালে ‘হিরো অব রাশিয়া’ উপাধি পাওয়া এক কমান্ডার তার সামনেই এক সেনাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছেন। অপর এক সেনার বর্ণনা অনুযায়ী, তার কমান্ডার নিজ হাতে চারজনকে গুলি করেছেন এবং ভুক্তভোগীরা জীবনভিক্ষা চাইলেও রেহাই পাননি। মূলত ‘মিট স্টর্ম’ বা মাংসের ঝড় নামক আত্মঘাতী হামলায় অংশ নিতে রাজি না হওয়াতেই তাদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীকে চাপে রাখতে একের পর এক রুশ সেনাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকেই সেনারা এই নামে অভিহিত করেন।
রুশ সামরিক বাহিনীতে অবাধ্য সেনাদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এখন নিয়মিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি গর্তে ২০ জন সহযোদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, যাদের নিজেদের কমান্ডাররাই গুলি করে হত্যা করেছেন।
যুদ্ধে যেতে রাজি না হওয়ায় সেনাদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, অভুক্ত রাখা এবং এমনকি গায়ে প্রস্রাব করার মতো ঘৃণ্য নির্যাতনের তথ্য দিয়েছেন পালিয়ে আসা সেনারা। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্র ছাড়াই তাদের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।
নিহত সেনা গণনার দায়িত্বে থাকা এক সদস্য জানিয়েছেন, তার দলের ৭৯ জন সেনার মধ্যে তিনিই একমাত্র জীবিত আছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখের বেশি রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন।
রাশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহত বা নির্যাতনের খবর অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের দাবি, রুশ বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছে। তবে পলাতক সেনাদের এই জবানবন্দি রুশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চরম বিশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রটি বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে।