জাতীয়তাবাদের জোয়ারে থাইল্যান্ডে ভুমজাইথাই পার্টির বড় জয়

থাইল্যান্ডের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রচার করা রক্ষণশীল দল ভুমজাইথাই পার্টি। এর নেতা ও দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এখন জোট সরকার গঠনে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভুমজাইথাই পার্টি সেনা সমর্থিত ও থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের শেষ দিকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষে জড়ায় থাইল্যান্ড। এর কয়েক মাসের মাথায় রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল ভুমজাইথাই।  

ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিষয়ের প্রভাষক ভিরত আলী বলছেন, গত তিন মাসে থাইল্যান্ড যে গতিতে চলছিল, সেভাবেই চলবে। নির্বাচনের পরও জাতীয়তাবাদ, কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং একই অর্থনৈতিক নীতি দেখা যাবে। খুব একটা পরিবর্তন হবে না।

সরকার গঠন করলে অনুতিনের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শতকোটি ডলারের সাইবার অপরাধ চক্রকে মোকাবিলা করা। স্থানীয় গণমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ আসনের মধ্যে অনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ২০০টি জিতেছে। যা অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশি। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসনের চেয়ে কম। 

নির্বাচনে প্রায় ১২০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’। আর কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফেউ থাই পার্টি’ আছে তৃতীয় স্থানে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ভোটাররা এই দুটি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনের তুলনায় তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সবশেষ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। যা তাদের রাজনৈতিক দলের ভোটের হিসাবেও প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে থাকসিন দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *