বিভিন্ন টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার কমিশন এই মামলার অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. খায়রুল হক বাদী হয়ে আজ-কালের মধ্যে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করবেন।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন আজ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এছাড়া তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, শেখ সেলিম গোপালগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। ওই সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানের এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ পছন্দের ঠিকাদারদের পাইয়ে দিয়েছিলেন।
ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগে মামলা করা হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন শেখ সেলিম।
স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ
জানা গেছে, শেখ সেলিমের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদকের গোপন অনুসন্ধানে তাদের নামে সন্দেহজনক স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। পরে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রকাশ্য অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।
তারা হলেন- শেখ সেলিমের স্ত্রী মিসেস ফাতেমা সেলিম, ছেলে শেখ ফজলে নাঈম, শেখ ফজলে ফাহিম ও মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ প্রদান করা হবে।