এক বছরে অপহরণ বেড়েছে ৭২%

অপহরণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়েছে। ২০২৫ সালে দেশে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ১০২টি। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। এই হিসাবে অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬০টি; শতাংশের হিসাবে ৭১ দশমিক ৬৫।  পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক অপহরণ হয়েছে। ২০২৩ সালে অপহরণের ঘটনা ৪৬৩, ২০২২ সালে ৪৬০ ও ২০২১ সালে ৪৪৫টি। 

নতুন বছরে পরপর কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোটের মাঠের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক দলের নেতা। 

গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ শুরু করে সরকার। সোমবার পর্যন্ত ২৪ দিনে এই অভিযানে ১৫ হাজার ৯ জন গ্রেপ্তার ও ২১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযানের মধ্যে থেমে নেই গুলির ঘটনা। হত্যার শিকার হচ্ছেন অনেকে। 
গত ২৯ ডিসেম্বর পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক আগামী নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নির্দেশ দেন। ওই সময় ভার্চুয়ালি সব জেলার এসপি, রেঞ্জ ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

গত বুধবার ঢাকায় মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়।  ৩১ ডিসেম্বর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই রাতে তিনি প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে আরোহীর সঙ্গে তাঁর তর্কবির্তক হয়। এ সময় অন্য মোটরসাইকেলে থাকা কিছু লোক নাঈমকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। রাতেই তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

১ ডিসেম্বর জুরাইনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক পাপ্পু শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের মূল নেতৃত্বে ছিলেন ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা। দীর্ঘদিন ধরে বাপ্পা জুরাইনে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার কারবারে বাধা দেয় পাপ্পু শেখের নেতৃত্বে স্থানীয়রা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে পাপ্পুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারাদেশে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে তিন হাজার ৭৮৫টি। তবে পুরোনো ঘটনায় ২০২৫ সালে বেশ কিছু মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে উঠে আসে। ২০২৪ সালে তিন হাজার ৪৩২টি খুন, ৬৪২টি অপহরণ ও ১৭ হাজার ৫৭১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে খুন ২৩১, অপহরণ ৫১ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৪৩টি; ফেব্রুয়ারিতে খুন ২৪০, অপহরণ ৪৩ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৩৭১টি; মার্চে খুন ২৩৯, অপহরণ ৫১ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৫০৯টি; এপ্রিলে খুন ২৯৬, অপহরণ ৫৫ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৬২৩টি; মে মাসে খুন ২৫৯, অপহরণ ৫০ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৭৬৭টি; জুনে খুন ২৬৮, অপহরণ ৩১ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৬৮৯টি; জুলাইয়ে খুন ৩৩৪, অপহরণ ৩২ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৭০২টি; আগস্টে খুন ৬২৬, অপহরণ ২৭ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৭২টি; সেপ্টেম্বরে খুন ২৮৩, অপহরণ ৬৫ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৫৭৮টি; অক্টোবরে খুন ২৪৯, অপহরণ ৯৬ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৫৬০টি;  নভেম্বরে খুন ২১১, অপহরণ ৬৭ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৪৫২টি এবং ডিসেম্বরে খুন ২০৪, অপহরণ ৭৪ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ২০৫টি।

এর আগে ২০২৩ সালে তিন হাজার ২৩টি খুন, ৪৬৩টি অপহরণ ও ১৮ হাজার ৯৪১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।  এর মধ্যে জানুয়ারিতে খুন ২১৪, অপহরণ ৩১ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ২৬৫টি; ফেব্রুয়ারিতে খুন ২২২, অপহরণ ২৬ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ২৯৫টি; মার্চে খুন ২৬৮, অপহরণ ৩৮ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৬৫২টি; এপ্রিলে খুন ২৯৬, অপহরণ ৩৯ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৪৪৮টি; মে মাসে খুন ২৪৬, অপহরণ ৪৯ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৮৬৭টি; জুনে খুন ২৭২, অপহরণ ৪১ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৮৩০টি; জুলাইয়ে খুন ২৯৬, অপহরণ ৩৯ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৭৯৪টি এবং আগস্টে খুন ২৫৩, অপহরণ ৪০ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৮৫১টি।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে খুন ২৩৮, অপহরণ ৫০ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৬৯৯টি; অক্টোবরে খুন ২৫৮, অপহরণ ৪৮ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৬২১টি;  নভেম্বরে খুন ২২৭, অপহরণ ৩৩ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ৪২৬টি এবং ডিসেম্বরে খুন ২৩৩, অপহরণ ২৯ ও নারী-শিশু নির্যাতন এক হাজার ১৯৩টি।

৩০ নভেম্বর দুপুরে খুলনার আদালতের সামনে দু্র্বৃত্তরা ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদার নামে দুই যুবককে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবী সেকশন-১২ নম্বর এলাকায় একটি হার্ডওয়্যার দোকানের মধ্যে ঢুকে তিনজন দুর্বৃত্ত পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। খুনিরা পেশাদার এবং ভাড়াটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *