প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য!

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে সরকারের ভেতরের একটি অংশের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, এই হামলাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর মতে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কী কী নাশকতা চালানো হবে, তার ছক আগে থেকেই তৈরি ছিল।

আমাদের স্লোগান ব্যবহার করে জনসম্মতি তৈরি করা হয়েছিল এবং এর পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছিল। সরকার, রাজনীতি ও সামাজিক সম্মতি—এই তিনের যোগসাজশ ছাড়া এমন সাহস দেখানো সম্ভব ছিল না।

যারা জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন হামলায় তাঁদেরও দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হামলার রাতে সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা বলেন, “ঐ রাতে ওই দুটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যারিকেড দেওয়ার মতো ৫০০ মানুষও ঢাকা শহরে ছিল না—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি সরকারকে বাধ্য করতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত বক্তারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা জানান।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর এই আক্রমণকে ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেন।

সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে একে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই রাতে ছায়ানট ও উদীচী কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকেও স্বাধীন সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *