টাইম ম্যাগাজিনের চোখে তারেক রহমান! যা জানা গেলো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বুধবার টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা তারেক রহমানের আত্মোপলব্ধি এবং দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, আমি যদি আমার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের বিশাল দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

টাইম-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ বছরের লন্ডন প্রবাস শেষে দেশে ফেরার পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকার। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাতুর তারেক রহমান বলেন, আমার হৃদয় অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত। তবে মায়ের কাছ থেকে আমি শিখেছি— যখন কোনো দায়িত্ব কাঁধে আসে, তখন তা পালন করাই প্রধান কাজ।

সমালোচকদের পারিবারিক উত্তরাধিকারের দাবির জবাবে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে নয়, বরং দলের লাখ লাখ সমর্থকের ভালোবাসার কারণেই আমি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। প্রতিবেদনে একটি জনমত জরিপের বরাতে জানানো হয়, বর্তমানে বিএনপির জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ।

অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই কেউ প্রমাণ করতে পারেনি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাঁর সকল দণ্ড বাতিল হয়েছে। কারাগারে থাকাকালীন নির্যাতনের ফলে মেরুদণ্ডের ব্যথায় আজও ভোগেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীত বাড়লে ব্যথাও বাড়ে। তবে আমি একে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে দেখি। আমি আমার সেরাটা দেব যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।

টাইম-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন তারেক রহমানকে একজন পরিপক্ব নেতায় রূপান্তরিত করেছে, যা তাঁকে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *