গভীর রাতে আগুন, পুড়ল গুরুত্বপূর্ণ ফাইল-নথিপত্র

নগরীর পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দপ্তরের ‘পি–টু’ শাখায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরনো ফাইল ও নথিপত্র। দপ্তরে কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও জরুরি মুহূর্তে তার একটিও কাজ না করায় পুরো বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রহস্যের দানা বেঁধেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়তলীর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি কেপিআই জোন হিসেবে চিহ্নিত এবং এখানে মালামাল সংরক্ষণের জন্য বড় গুদাম রয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ নথিপত্র রাখার কক্ষে আগুনের শিখা দেখা দিলে পাহারারত আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) সদস্যরা দ্রুত সেখানে থাকা ‘ফায়ার স্টিম বুশার’ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সারিবদ্ধভাবে রাখা ঐ সরঞ্জামগুলোর একটিও সক্রিয় ছিল না।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মচারী জানান, আগুনে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৬–১৭ বছর ধরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে জিম্মি করে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার একজনে তিন–চারটি ঠিকাদারী লাইসেন্স দিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিনা টেন্ডারে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক তার পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে নিম্নমানের রেলের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সকল ধরনের কেনাকাটা করিয়ে থাকেন। এই চক্রটি বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কেনাকাটায় দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছিল দুদক, তবে এখনও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদ এবং সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন এবং একাধিক ঠিকাদার কেনাকাটার দুনীর্তির সাথে জড়িত ছিল বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বর্তমান প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারকে ঘিরেও ঠিকাদারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আগের দুর্নীতিবাজ ঠিকাদাররা কোটি কোটি টাকার টেন্ডার ছাড়া অর্ডার নিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। টেন্ডার ছাড়া কোটি কোটি টাকার কেনাকাটা করা হচ্ছে পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে।

দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যেই শুক্রবার গভীর রাতে কার্যালয়ে ফাইল পত্রে আগুন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারদের একটি অংশ। এই ব্যাপারে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত সাড়ে ১১টায় খবর পেয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি গাড়ি গিয়ে রাত পৌনে ১টায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয়। আগুনে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সবুক্তগীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *