চোখের ক্লান্তি কাটানোর টিপস

আজকাল বেশিরভাগ মানুষের দিন কাটে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। অফিসের কাজ হোক বা বিনোদন, এই ডিজিটাল আসক্তির কারণে চোখ দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। অনেকেরই চোখ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, কারও বা চোখের মণি ভারী হয়ে আসছে। এসব ছোটখাটো অস্বস্তি থেকে অনেক সময় বড় বিপদ দেখা দেয়। ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশলে চোখের সতেজতা বজায় রাখতে পারেন। 

চোখের ক্লান্তির কারণ 

একটানা কোনও স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সময় চোখের পাতা ফেলা হয়। এর ফলে চোখের মণি ও চারপাশের পেশিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, একটানা ড্রাইভিং বা অফিসে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা—কারণ যাই হোক না কেন, চোখের বিশ্রাম ভীষণভাবে প্রয়োজন।

চোখের ক্লান্তি কাটাতে কী করবেন

কোল্ড কমপ্রেস

চোখের ক্লান্তি কাটাতে দ্রুত আরাম দেয় কোল্ড কমপ্রেস। এটি চোখের ফোলাভাব কমাতে দারুণ কার্যকরী। এজন্য বাজার থেকে জেল প্যাক কিনে ব্যবহার করতে পারেন। অথবা বাড়িতেই পাতলা পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চিপে নিন। এরপর চোখ বন্ধ করে ৮ থেকে ১০ মিনিট চোখের ওপর দিয়ে রাখুন।এতে চোখে আরাম মিলবে। 

তালুর ভাপ

কাজের মাঝখানে যখনই চোখ ক্লান্ত লাগবে, তখনই হাতের তালুর সাহায্যে ভাপ দিন। দুই হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে ঘষে হালকা গরম করে নিন। এরপর চোখ বন্ধ করে আলতো করে তালু জোড়া চোখের ওপর রাখুন। খুব জোরে চাপ দেয়া যাবে না। এই উষ্ণতা চোখের পেশিকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক সমাধান

রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু জিনিসও চোখের ক্লান্তি কাটাতে উপকারী হতে পারে। যেমন-

শসা: শসা কুচি করে বা গোল স্লাইস করে চোখের ওপর রাখলে জ্বালাভাব ও চোখের নিচের কালি কমে।

অ্যালোভেরা ও গ্রিন টি: ব্যবহার করা ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ বা টাটকা অ্যালোভেরা জেল চোখের সতেজতা ফেরাতে দারুন কার্যকর। 

মেনে চলুন ২০-২০-২০ নিয়ম

বিশেষজ্ঞরা চোখের সুরক্ষায় একটি বিশেষ সূত্রের কথা বলেন, যাকে বলা হয় ‘২০-২০-২০ রুল’। এর মানে হলো প্রতি ২০ মিনিট পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনও বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলো বিশ্রাম পায়।

এসব চোখের ক্লান্তি কাটাতে সাময়িক ভালো কাজ করে। যদি আপনার চোখে অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *